অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পরিচিত মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সিডনির লাকেম্বা মসজিদের বিদ্যমান মিনারে চারটি লাউডস্পিকার স্থাপন করে আজান সম্প্রচারের জন্য নতুন আবেদন করেছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন। ২০২৬ সালে দাখিল করা DA-518/2026 নম্বরের আবেদনটি বর্তমানে ক্যান্টারবারি-ব্যাংকস্টাউন কাউন্সিলের বিবেচনাধীন এবং এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টাল-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, PAN-633533 নম্বরের আবেদনটি লাকেম্বা মসজিদের ৬৭ ওয়াঙ্গি রোডের বিদ্যমান মিনারে চারটি লাউডস্পিকার স্থাপনের জন্য করা হয়েছে। আবেদনটির জনসাধারণের প্রদর্শন ও মতামত গ্রহণের সময়সীমা ছিল ২০ মে থেকে ৯ জুন ২০২৬। বর্তমানে আবেদনটির অবস্থা ‘আন্ডার কনসিডারেশন’।
নতুন আবেদনের সঙ্গে অ্যাকুস্টিক রিপোর্ট, স্থাপত্য পরিকল্পনা, সাইট ও নোটিফিকেশন প্ল্যান এবং Statement of Environmental Effects-সহ মোট ১০টি সংশ্লিষ্ট নথি জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের আগে লাউডস্পিকারে আজান সম্প্রচারের এই প্রস্তাব লাকেম্বা ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে ২০২৫ সালেও ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল।
২০২৫ সালের প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের সময় নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস বলেছিলেন, তিনি আবেদনটির বিস্তারিত জানেন না এবং বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলের পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত।
তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, শুক্রবার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমিত পরিসরে আজান সম্প্রচারের বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ থাকতে পারে। প্রিমিয়ার বলেন, আজান কতক্ষণ সম্প্রচার করা হবে বা এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের নির্দিষ্ট নিয়ম কী, সে বিষয়ে তিনি বিশেষজ্ঞ নন। বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলের মূল্যায়নের ওপর ছেড়ে দেওয়াই উপযুক্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লাকেম্বা মসজিদের জন্য DA-217/2025 নম্বরের আগের উন্নয়ন আবেদনটি ৭ মার্চ ২০২৫ জমা দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ২০ মিটার উচ্চতার বিদ্যমান মিনারে চারটি লাউডস্পিকার স্থাপন করে প্রতি শুক্রবার সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট আজান সম্প্রচারের কথা ছিল।
১৯ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত জনমত গ্রহণের সময় কাউন্সিলের কাছে মোট ৩২৯টি মতামত জমা পড়ে। এর মধ্যে মাত্র একটি প্রস্তাবের পক্ষে এবং ৩২৮টি বিরোধিতায় ছিল।
আপত্তিকারীদের প্রধান উদ্বেগ ছিল লাউডস্পিকারের শব্দ, আশপাশের আবাসিক এলাকার স্বাচ্ছন্দ্য, স্থানীয় পরিবেশ এবং প্রতিবেশী সম্পত্তির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব।
২০২৫ সালের আবেদন পর্যালোচনার সময় স্থানীয় পরিকল্পনা প্যানেল Canterbury-Bankstown Local Environmental Plan 2023 এবং Development Control Plan-এর সংশ্লিষ্ট বিধান, এলাকার বাসযোগ্যতা ও আবাসিক এলাকার স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়গুলো বিবেচনা করে।
প্যানেল মনে করে, প্রস্তাবিত লাউডস্পিকারের শব্দ আশপাশের আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর অগ্রহণযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত কার্যক্রমের সামাজিক প্রভাব ও সম্ভাব্য সুফল মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় Social Impact Assessment জমা না দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
শেষ পর্যন্ত ১১ আগস্ট ২০২৫ স্থানীয় পরিকল্পনা প্যানেলের সভায় আবেদনটি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে NSW Planning Portal-এ ১৫ আগস্ট ২০২৫ আনুষ্ঠানিক determination date হিসেবে উল্লেখ করে আবেদনটির সিদ্ধান্ত ‘Refused’ ঘোষণা করা হয়।
তবে ২০২৬ সালের আবেদনটি একটি নতুন ও পৃথক উন্নয়ন আবেদন। সরকারি Planning Portal-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এটি এখনো ‘Under Consideration’ অবস্থায় রয়েছে। ফলে নতুন আবেদনটি অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।
ফলে লাকেম্বা মসজিদে লাউডস্পিকারে আজান সম্প্রচারের বিষয়টি এখন ক্যান্টারবারি-ব্যাংকস্টাউন কাউন্সিলের নতুন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। ২০২৫ সালের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও ২০২৬ সালের নতুন আবেদনের ফল কী হয়, সেটিই এখন স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটি, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের বাসিন্দাদের আগ্রহের বিষয়।
লাকেম্বা মসজিদকে ঘিরে এই আবেদনটি ধর্মীয় অনুশীলন, শব্দ নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বিভিন্ন স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্নও সামনে এনেছে।
তথ্যসূত্র: টিম প্রেস অস্ট্রেলিয়া (বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ান জার্নালিস্ট গ্রুপ)