আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী সংগঠন একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়া গত রবিবার(১লা ফেব্রুয়ারী) সিডনির মারিকভিল কমিউনিটি সেন্টারে এক তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিকাল ৪:০০টায় Acknowledgement of Country–এর মাধ্যমে। এরপর বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। ১৯৭১ সালের শহিদ বুদ্ধিজীবী, ১৯৫২ সালের ভাষা শহিদ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অমিয়া মতিনের পরিচালনায় একুশে একাডেমীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক দল ‘অভিযাত্রী’-এর পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন অমিয়া মতিন, অভিজিৎ বড়ুয়া, পিয়াসা বড়ুয়া, লিলি গোমেজ, বেঞ্জামিন গোমেজ ও ছায়া বিশ্বাস। তবলায় সঙ্গত করেন মিঠু বর্মন। এরপর ড. মনিরা হক ও তাঁর টিম Organ and Tissue Donation, NSW-এর We Care App সম্পর্কে উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন।
পরবর্তীতে ড. সুলতান মাহমুদ-এর সভাপতিত্বে এবং একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ সাজু-এর সঞ্চালনায় শুরু হয় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা পর্ব। এবারের আলোচনার বিষয় ছিল— “বাংলাদেশের ভাষাশহীদের আত্মদান ও নির্দেশিত পথ”।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রখ্যাত ছড়াকার, কবি, প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এস এম আব্রাহাম লিঙ্কন। তিনি বাংলা ভাষা আন্দোলনের সংগ্রাম, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, চলমান সংকট ও উত্তরণের পথ নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ ও চিন্তাশীল বক্তব্য তুলে ধরেন।
মূল প্রবন্ধের আলোকে সারগর্ভ আলোচনা করেন কলামিস্ট আজয় দাস গুপ্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান তরুণ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েতুর রহিম বেলাল। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে সিডনির বাঙালি কমিউনিটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ড. সিরাজুল হক, গামা আব্দুল কাদির, অজয় দাশগুপ্ত, শফিকুল আলম, ড. নুর উর রহমান এবং কাউন্সিলর এলিজা রহমান টুম্পা প্রমুখ তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা নতুন প্রজন্মের মাঝে ইতিহাসচর্চা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার যথাযথ ও শুদ্ধ প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ড. আব্দুল ওয়াহাব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল নোমান শামীম ও রওনক হাসান।
সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. সুলতান মাহমুদ উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য একুশে বইমেলায় সবাইকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।