বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৯ অপরাহ্ন

অস্ট্রেলিয়ার ক’গারি দ্বীপের সৈকতে কানাডিয়ান তরুণীর মৃত্যু

পূরবী পারমিতা বোস
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৮ Time View

পূরবী পারমিতা বোস : অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের ক’গারি (সাবেক ফ্রেজার আইল্যান্ড) দ্বীপের একটি নির্জন সৈকতে ১৯ বছর বয়সী কানাডিয়ান তরুণী পাইপার জেমসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার ১৯ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে স্থানীয় লোকজন তার নিথর দেহ দেখতে পান এবং জরুরি পরিষেবাকে খবর দেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভোর প্রায় ৫টার দিকে পাইপার পরিচিতদের জানিয়েছিলেন যে তিনি সমুদ্রে সাঁতার কাটতে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ভোর ৫টা থেকে ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, পাইপারের মরদেহের আশপাশে একাধিক ডিঙ্গো (অস্ট্রেলিয়ার বন্য কুকুরজাতীয় প্রাণী) ঘোরাফেরা করছিল। কুইন্সল্যান্ড পুলিশ ঘটনাটিকে “চরম ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক” বলে বর্ণনা করেছে।

তবে এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, ডিঙ্গোরা মৃত্যুর কারণ, নাকি মৃত্যুর পরবর্তী পরিস্থিতিতে সেখানে জড়ো হয়েছিল।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে তিনটি সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে…পাইপার সাঁতার কাটতে গিয়ে তীব্র ঢেউ বা স্রোতে ভেসে ডুবে যেতে পারেন, কোনো ডিঙ্গো তাকে আক্রমণ বা তাড়া কড়ায় সে পানিতে পড়ে যেতে পারে
অথবা ডিঙ্গোর সরাসরি আক্রমণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।এই তিনটির কোনটি প্রকৃত কারণ তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

পাইপার জেমস কানাডা থেকে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে পাঁচ মাসের ব্যাকপ্যাকিং সফরে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন। গত বছরের ২৭ অক্টোবর তার এই ভ্রমণ শুরু হয়। হাইস্কুল শেষ করার পর এক বছর কাজ করে তিনি এই ভ্রমণের খরচ জোগাড় করেছিলেন।

গত ছয় সপ্তাহ ধরে তিনি ক’গারি দ্বীপে কাজ করছিলেন। তার সঙ্গে থাকা কানাডিয়ান বন্ধু বর্তমানে চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন এবং তাকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

পাইপারের বাবা টড জেমস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তায় লিখেছেন,
“আমাদের সুন্দর কন্যাকে হারিয়ে আমরা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি।”পরিবার জানিয়েছে, পাইপার আগে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ওয়াইল্ডফায়ার সার্ভিসে কাজ করেছিলেন এবং ভবিষ্যতে পাইলট লাইসেন্স নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। উড়োজাহাজ ও আকাশের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল।

কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় Global Affairs Canada এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং নিহত তরুণীর পরিবারকে পূর্ণ কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে। পাইপারের বাবা-মা ইতোমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ায় আসছেন, মেয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার জন্য।

কুইন্সল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, তবে রিপোর্ট এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানানো হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক’গারি দ্বীপে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ডিঙ্গো ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category