বাংলাদেশের সীমান্তে ভারত কর্তৃক পুশ-ইন ও নির্মম সীমান্ত হত্যা, দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন ও জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল ইসলাম নাঈম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বেল্লাল মিয়াজি এবং লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম।
বৈঠক শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের জানান, সভায় অবিলম্বে সীমান্তে পুশ-ইন ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর সীমান্ত হত্যা বন্ধের জন্য বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং নতজানু পররাষ্ট্র নীতি সম্পূর্ণ পরিহার করে সমমর্যাদার ভিত্তিতে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের উপযোগী পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়। জোটের নেতারা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত সংবাদ সম্মেলন থেকেই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনের রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।