ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শককে মাতিয়ে রেখেছেন তিনি। আজ এই তারকার জন্মদিন। ৪৬ পেরিয়ে জীবনের ৪৭ বসন্তে পা দিলেন শাকিব খান। গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদীতে জন্মগ্রহণ করলেও তার শৈশব কেটেছে নারায়ণগঞ্জে। বাবা আব্দুর রব ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারী এবং মাতা নূরজাহান একজন গৃহিণী। জন্মদিনে ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন শাকিব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। তবে নিজের ৪৭তম জন্মদিনে দেশে নেই তিনি। মালয়েশিয়ায় ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সেখান থেকেই সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন ঢালিউডের এই সুপারস্টার।
শাকিব খানের প্রথম সিনেমা ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’। আফতাব খান টুলু পরিচালিত শাকিবের নায়িকা ছিলেন নবাগতা কারিশমা শেখ। তবে তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’। এই সিনেমার মাধ্যমে শাকিব খান নামে আত্মপ্রকাশ করেন নায়ক। তার আসল নাম মাসুদ রানা। ‘অনন্ত ভালোবাসা’ সিনেমায় শাকিব খানের নায়িকা হিসেবে ছিলেন ইরিন জামান। সিনেমাটি ব্যবসা সফল না হলেও এরপর অভিনয় করেছেন অসংখ্য সিনেমায়। কিছু হয়েছে হিট, আবার কিছু হয়েছে ফ্লপ। তবে অভিনয় নিয়ে হাল ছাড়েননি কখনো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢালিউডে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
অভিনয় করেছেন কালজয়ী নায়িকা মৌসুমী-শাবনূর-পপি-পূর্ণিমা থেকে শুরু করে আজকের নবাগত কয়েকজন নায়িকার সঙ্গেও। পাশাপাশি যৌথ প্রযোজনা ও কলকাতার লোকাল প্রোডাকশনের সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ২০১৪ সালে ‘খোদার পরে মা’ এবং ২০১৬ সালের ‘আরও ভালোবাসবো তোমায়’, ২০১৭ সালে ‘সত্তা’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন শাকিব। ঢাকাই সিনেমা এখন অনেকটাই শাকিবনির্ভর হয়ে পড়েছে। প্রযোজক-পরিচালকরা তার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে নির্মাণ করেন নতুন সিনেমা। দর্শকরাও বাড়তি আগ্রহ নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করেন শাকিব খানের সিনেমা দেখতে। বরাবরের মতো এবারের ঈদেও দর্শক মাতাচ্ছে তার সিনেমা ‘প্রিন্স : ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’। সর্বাধিক ১৩৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘প্রিন্স’। এতে শাকিব খানের অভিনয় মুগ্ধ করেছে দর্শকদের।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ। সিনেমাটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ ও কলকাতার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। সিনেমায় সফলতার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়ে অনেকবার সমালোচনায় পড়েছেন শাকিব খান। ব্যক্তিজীবনে এই নায়ক দুই পুত্র আবরাম খান জয় ও শেহজাদ খান বীরের পিতা। তার সাবেক দুই স্ত্রী অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলী।