শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে টানা ছুটিতে পর্যটকের ঢল

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ Time View

টানা ছুটির সুযোগে আবারও পর্যটকের ঢল নেমেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। ঈদুল ফিতরের টানা ৭ দিনের ছুটি শেষ হওয়ার পর সপ্তাহের মাঝামাঝি দুই কর্মদিবস পার করে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস এবং পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ৩ দিনের ছুটিতে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড় বেড়েছে সমুদ্রপাড়ে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে সমুদ্র সৈকতে ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকরা। কেউ ঘোড়ায় চড়ে সৈকত ঘুরছেন, কেউ বিচ বাইক কিংবা জেট স্কিতে রাইড নিচ্ছেন, আবার অনেকে কিটকট ছাতা-চেয়ারে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্রের সৌন্দর্য।

এদিকে পর্যটকের অতিরিক্ত চাপে কক্সবাজারের ৫ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউজের সব কক্ষই পূর্ণ হয়ে গেছে। কোথাও কোনো কক্ষ খালি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, শহরের সব আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে এবং ৩০ মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেলে অগ্রিম বুকিং রয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকের চাপ বেড়েছে, প্রায় সব হোটেলেই পর্যটক অবস্থান করছেন। পর্যটকদের হয়রানি রোধে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হোটেলগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি পর্যটকদের উদ্দেশে অগ্রিম বুকিং নিশ্চিত করে ভ্রমণে আসার পরামর্শ দেন। অন্যথায় অতিরিক্ত ভাড়া ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বীচ কর্মীরা। এছাড়া পানিতে দুর্ঘটনা এড়াতে কাজ করছে সি সেইফ লাইফগার্ড সদস্যরা।

সি সেইফ লাইফগার্ডের সিনিয়র লাইফগার্ড রশীদ আহমেদ জানান, টানা ছুটিতে পর্যটকের চাপ বেড়ে যাওয়ায় মাত্র ২৭ জন লাইফগার্ড দিয়ে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নান বলেন, পর্যটক হয়রানি রোধে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টানা ছুটির আমেজে উচ্ছ্বাসে মেতেছে কক্সবাজার, তবে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত রাখতে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category