মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার একযোগে ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভারতে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড : ১১ জনের মৃত্যু আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ৫ জেলায় বিজিবি মোতায়েন শিকাগোতে ৩ দিনে ২৪ বন্দুক হামলায় নিহত ৭, গুলিবিদ্ধ ৩৮ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া ইনক (BAOA) বার্ষিক গালা ডিনার ও কালচারাল নাইট উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর : বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার

সৈকতে হামলার পর কড়া নিরাপত্তায় অষ্ট্রেলিয়ায় বর্ষবরণ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৮৯ Time View

নতুন বছর ২০২৬-কে স্বাগত জানাতে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে একযোগে শুরু হয়েছে নববর্ষ উদযাপন। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, ক্যানবেরা, হোবার্ট, অ্যাডিলেড, পার্থ ও ডারউইনসহ বড় শহরগুলোতে আতশবাজি ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বছরটি বরণ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বন্ডি বিচে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর এবারের উদযাপনে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

নববর্ষ উপলক্ষে সিডনিতে সবচেয়ে বড় আয়োজন হয়। শহরজুড়ে এক মিলিয়নের বেশি মানুষের সমাগম ঘটে।

তবে বন্ডি বিচে ভয়াবহ হামলার ঘটনার তিন সপ্তাহও না পেরোতেই হওয়া এই উদযাপনে রেকর্ডসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিডনির বিভিন্ন এলাকায় ইউনিফর্ম ও সাদাপোশাকে দুই হাজার পাঁচশোর বেশি পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রও বহন করছিলেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ মুহূর্তে কোনো তাৎক্ষণিক বা বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নেই।

সব সময়ের মতো এবারও সিডনিতে দুটি আতশবাজির আয়োজন ছিল। স্থানীয়দের জন্য রাত ৯টার প্রদর্শনী ছিল বেশ জনপ্রিয়। সিডনি হারবারের চারপাশে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা যে যেখান থেকে পারেন সেখান থেকেই আতশবাজি উপভোগ করেন। প্রথম প্রদর্শনীর পর কেউ কেউ বাড়ি ফিরলেও অনেকেই মধ্যরাতের মূল আয়োজনের জন্য অপেক্ষা করেন।

হারবারের জনপ্রিয় স্থান মিসেস ম্যাককোয়ারির চেয়ারে প্রায় ১০ হাজার মানুষ জড়ো হন। সকাল ১০টায় গেট খোলার পরপরই সেখানে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায় এবং দুপুরের মধ্যেই জায়গাটি পূর্ণ হয়ে যায়।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, শহর ও হারবার এলাকায় বিশেষায়িত টিম মোতায়েন ছিল। তবে ওই স্থানে পুলিশের তুলনামূলক উপস্থিতি কম ছিল এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে ছিল বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীরা।

জার্মানি থেকে আসা এক নারী জানান, তিনি জীবনে এমন অভিজ্ঞতা কখনো দেখেননি। ভিড়ের চাপে কেউ কেউ আতঙ্কিতও হয়ে পড়েন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে নিউ সাউথ ওয়েলসের উলংগং শহরে রাত ৯টার আতশবাজি বাতিল করা হয়। সিটি অব উলংগং কর্তৃপক্ষ জানায়, সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা ও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আতশবাজি ছোড়া নিরাপদ নয়। তারা জানায়, সিদ্ধান্তটি কঠিন হলেও জননিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

ব্রিসবেনে দক্ষিণ তীর এলাকায় ভারী বৃষ্টির মধ্যেও হাজারো মানুষ রাত ৯টার আতশবাজি দেখতে জড়ো হন। আনুমানিক ৯০ হাজার মানুষ ব্রিসবেন নদীর পাড়ে অবস্থান নেন। জার্মানি থেকে আসা দুই পর্যটক বলেন, বৃষ্টি খুব একটা সমস্যা করেনি। সানশাইন কোস্ট ও গোল্ড কোস্টেও আতশবাজির আয়োজন ছিল।

ক্যানবেরায় ঝড়ের আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার থাকায় লেক বার্লি গ্রিফিনের চারপাশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ শহরের সবচেয়ে বড় আতশবাজি প্রদর্শনী উপভোগ করেন। আয়োজকেরা জানান, এটি ক্যানবেরার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী।

হোবার্টে নদীর পাড়ে ‘টেস্ট অব সামার’ উৎসবের সঙ্গে নববর্ষের উদযাপন মিলিয়ে দেওয়া হয়। তাসমানিয়ার খাবার ও সঙ্গীতের পাশাপাশি রাত ৯টা ৩০ মিনিট ও মধ্যরাতে দুটি আতশবাজির প্রদর্শনী হয়। আয়োজকেরা জানান, প্রতিটি প্রদর্শনীতে এক হাজারের বেশি আতশবাজি ব্যবহার করা হয়েছে।

অ্যাডিলেডে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এল্ডার পার্ক ও উপকূলীয় এলাকায় হাজারো মানুষ জড়ো হন। রাত ৯টায় পারিবারিক প্রদর্শনী এবং মধ্যরাতে মূল আয়োজন হয়। শহর ও গ্লেনেলগ এলাকায় পুলিশকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়ে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়।

মেলবোর্নে ঠান্ডার মধ্যেই শহরের ইতিহাসের অন্যতম বড় আতশবাজি প্রদর্শনী হয়। সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ শহরের কেন্দ্রে জড়ো হওয়ায় অনেক রাস্তা ও ট্রাম চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

পার্থে গরম আবহাওয়ায় অনেকে নদীতে নৌকা ও জেট স্কি নিয়ে উদযাপনে অংশ নেন। এলিজাবেথ কুইয়ে ডিজে ও পারিবারিক বিনোদনের পর রাত ৮টা ৩০ মিনিট ও মধ্যরাতে আতশবাজি ছোড়া হয়।

ডারউইনে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আয়োজকেরা আশাবাদী ছিলেন। ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় আতশবাজির পাশাপাশি নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড এস্কিমো জো সংগীত পরিবেশন করে।

নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ একতার ওপর গুরুত্ব দেন। বন্ডি বিচে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর হামলার দুঃখের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই ঘটনাই আবার অস্ট্রেলীয়দের সাহস ও মানবিকতার সেরা দিক তুলে ধরেছে। নতুন বছরে সব চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা সুসান লেও নতুন বছরে আশার কথা তুলে ধরে বিভাজন নয়, পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category