বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন

অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিকে অভিযান, জরিমানা ১৪ লাখ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১১ মার্চ, ২০২৪
  • ৯৫ Time View

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাইসেন্সবিহীন অবৈধ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৩)। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মসহ রোগীদের সাথে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ও ভুল চিকিৎসা দেওয়াসহ নানান অপরাধের অভিযোগে ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মার্চ) র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, র‍্যাব-৩ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, রাজাধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার মাধ্যমে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে নানাভাবে রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নানা দুর্ভোগে ফেলছে। সাধারণত রাজধানীর বিভিন্ন নামকরা সরকারি হাসপাতালের দালালদের মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনেরা এ সকল হাসপাতালে চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে এসে প্রতারিত হয়।

তিনি বলেন, এসকল অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত না হওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিম্নমানের অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদান করে অদক্ষ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, নার্স ও আয়াদের মাধ্যমে ভুল চিকিৎসা দিয়ে রোগীদের নানা ধরনের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়। তাছাড়া হাসপাতালের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামাদি এবং নমুনা সমূহ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সংরক্ষিত হয় যাতে এর কার্যকারিতা বিনষ্ট হয়।

উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, এক্সরে মেশিন এমন জায়গায় রাখা হয় যেখানে ন্যূনতম সুরক্ষা-ব্যবস্থা নেই ৷ এতে এক্সরে করতে আসা রোগী, যিনি এক্সরে করাচ্ছেন তিনি এবং আশপাশের মানুষ ভয়াবহ রেডিয়েশনের শিকার হচ্ছেন। রি-এজেন্ট অর্থাৎ কেমিক্যালের পাশে রাখা হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় জিনিস। অনুমোদন বিহীন এসকল অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অধিকাংশ চিকিৎসকই অদক্ষ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই পরীক্ষা-নিরীক্ষাকারী টেকনিশিয়ানদের নিয়োগ প্রদান করা হয়। এছাড়াও ভুয়া চিকিৎসক, অনভিজ্ঞ নার্স ও অদক্ষ আয়া দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। অর্থাৎ চিকিৎসার নামে মরণ ব্যবস্থা চালু করে রেখেছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা।

অভিযানের কথা উল্লেখ করে আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, র‍্যাব-৩ এর আভিযানিক দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ‘সীমান্তিক ক্লিনিক’ এর মালিক মো. সামসুদ্দীন (৬২), এর কাছ থেকে ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ল্যাব টেকনিশিয়ান মাহবুব আলম (৫২), এর কোন প্রকার শিক্ষাগত সনদ না থাকায় ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, পরিবেশ ও নার্কোটিক্স ছাড়পত্র না থাকা, ঔষধ রাখার স্টোর নোংরা, ওটি ও এক্সরে রুম অস্বাস্থ্যকর হওয়া, ডিউটি ডাক্তার ১৫ জনের জায়গায় ১০ জন থাকা, নার্স ৩০ জনের স্থলে ১২ জন থাকা, ফায়ার লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ‘পিপলস্ হসপিটাল’ এর মালিক মো. মনোয়ারুল হক (৩৫) এর কাছ থেকে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের লাইসেন্স এর মেয়াদ না থাকা, ব্লাড ব্যাংক এর লাইসেন্স না থাকা, পরিবেশ ও নার্কোটিক্স ছাড়পত্র না থাকা, ওটি ও এক্সরে রুম অস্বাস্থ্যকর হওয়া, অপ্রতুল ডাক্তার ও নার্স থাকা প্রভৃতি অনিয়ম।

রাজধানীর মুগদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘ফ্রেন্ডস কেয়ার হাসপাতালে’ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে হাসপাতালের মালিক শফিকুর রহমান এবং সাকুর আহমেদ এর কাছ থেকে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, হাসপাতালের মেয়াদত্তীর্ণ লাইসেন্স, পরিবেশ ও নার্কোটিক্স ছাড়পত্র না থাকা, ওটি ও এক্সরে রুম ময়লাযুক্ত প্রভৃতি অনিয়ম।

একই সময় রাজধানীর মুগদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘সুরাইয়া হাসপাতালে’ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে হাসপাতালের মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম এর কাছ থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এসকল অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category