বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন

ফ্রান্স থেকে আলবেনিয়া, বিক্ষোভে উত্তাল ইউরোপ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ Time View
জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, সরকারি পরিষেবার অবনতি ও আবাসন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতিকে কেন্দ্র করে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে মহাদেশটির বড় বড় শহরে রাজপথে নামছেন হাজারো মানুষ। ফ্রান্স, ইতালি ও আলবেনিয়ার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ঘিরে গ্রেপ্তার, লুটপাট, হতাহত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে স্পেন ও পর্তুগালে আবাসনের আকাশছোঁয়া ব্যয়ের প্রতিবাদে গড়ে উঠেছে বিক্ষোভের শিবির।
স্পেনের দেউস্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক মারিয়া সিলভেস্ত্রে বলেন, তরুণ ইউরোপীয়দের মধ্যে ‘তীব্র অনিশ্চয়তার অনুভূতি এবং নিজেদের পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর বোধ’ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘আর যখন নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি একসঙ্গে মিলে যায়, তখন হঠাৎই একটি স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে। সেই স্ফুলিঙ্গ মানুষের ক্ষোভকে প্রকাশের পথ করে দেয় এবং তাদের রাজপথে নামতে উদ্বুদ্ধ করে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির দেশ ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন যখন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন এসব দেশের বিভিন্ন শহর যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। একই সময়ে জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থি দলগুলো নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছে। অন্য দেশগুলোতেও তাদের অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপের সমর্থন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নিচ্ছেন। অন্যদিকে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে অগ্নিসংযোগ, সাইবার হামলা ও অন্যান্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হচ্ছে।
রাজপথের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন ডানপন্থি রাজনীতিকেরা। ফ্রান্সের বিক্ষোভে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিলেও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য অভিবাসীদের দায়ী করেছেন ট্রাম্প। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘অভিবাসীরা ফ্রান্স দখল করে নিয়েছে। দ্রুত সীমান্ত বন্ধ করতে হবে!’
বিক্ষোভগুলোতে হতাশ তরুণদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। কালো পোশাক ও মুখোশ পরা কিছু উসকানিদাতা সহিংসতা ছড়ালেও ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ এসব ঘটনার জন্য অভিবাসীদের দায়ী করেনি। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপজুড়ে চলমান অস্থিরতার পেছনে কী কী কারণ কাজ করছে, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category