সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন

আজহারীর পর শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০ Time View

ইহুদি বিদ্বেষী ও উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর পর এবার আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। শনিবার সন্ধ্যায় সিডনিতে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে তার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে বিতর্কের মুখে তিনি আগেই অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেন। অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার পর তার ভিসা বাতিলের কথা জানা গেলো। অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টেলিগ্রাফ এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ এপ্রিল) ক্যানবেরা, শুক্রবার অ্যাডিলেড এবং শনিবার পার্থে শায়খ আহমাদুল্লাহর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে ভিসা বাতিল হওয়ায় এই কর্মসূচিগুলো বাতিল করা হয়েছে।

দ্য সানডে টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শায়খ আহমাদুল্লাহ ইহুদিদের ‘ঘৃণ্য’ এবং বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত করেছিলেন। টেলিগ্রাফের হাতে আসা একটি ভিডিওর বরাতে বলা হয়েছে, তিনি এক আলোচনায় বলেছিলেন, ‘জনৈক পণ্ডিত বলেছিলেন… এমনকি দুটি মাছ যদি লড়াই করে, তবে বুঝতে হবে এর পেছনে ইহুদিদের ষড়যন্ত্র আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা এমনই ঘৃণ্য… বিশ্বের সব অস্থিরতার পেছনে তারাই কলকাঠি নাড়ে।’

রবিবার অস্ট্রেলিয়ার সহকারী অভিবাসন মন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়েট জানান, তিনি শায়খ আহমাদুল্লাহর বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন। স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন ব্যক্তিদের মোটেও সহ্য করব না যারা ইহুদি বিদ্বেষী বা ইসলামভীতি ছড়ায়। অভিবাসন আইনে আমাদের ভিসা বাতিল করার ক্ষমতা রয়েছে।’

শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা প্রথমে কেন অনুমোদিত হয়েছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে থিসলথওয়েট বাংলাদেশের আরেক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর উদাহরণ টানেন। আজহারীকেও বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়। থিসলথওয়েট বলেন, ‘যখনই আমরা এই ধরনের মন্তব্যের বিষয়ে অবগত হই, তখনই আমরা ভিসা বাতিল করি।’

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মিজানুর রহমান আজহারী নাৎসি স্বৈরশাসক অ্যাডলফ হিটলারকে ইহুদিদের জন্য ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ হিসেবে প্রচার করেছিলেন। তিনি ইহুদিদের বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যার জন্য দায়ী করে তাদের ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ এবং ‘বিষাক্ত কলঙ্ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এর ফলে তার অস্ট্রেলিয়ায় পুনরায় প্রবেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এদিকে জোট সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র মিকায়েলিয়া ক্যাশ বলেন, শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা কখনোই মঞ্জুর করা উচিত ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া একটি পশ্চিমা দেশ এবং এর নিজস্ব মূল্যবোধ রয়েছে। আপনি যদি এখানে ঘৃণা ছড়াতে এবং আমাদের মূল্যবোধ নষ্ট করতে আসেন, তবে আপনাকে কখনোই প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়।’

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার কেবল তখনই ব্যবস্থা নেয় যখন বিষয়টি সামনে আসে। তবে অস্ট্রেলীয়রা এর চেয়ে ভালো কিছু পাওয়ার দাবিদার।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category